আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের কথা বলছি
- বিচিত্র কুমার
আমি এক হিন্দু সম্প্রদায়ের কথা বলছি
আমি লক্ষ লক্ষ নির্যাতিত হিন্দু মানুষের কথা বলছি,
যারা তাদের মাতৃত্বের অধিকার হারিয়ে ফেলছে আস্তে আস্তে
আমি আত্মসম্মান হারা সেই লাঞ্চিত সমাজের কথা বলছি।
যারা জীবন যুদ্ধে এ সমাজের কাছে পরাজিত এক সৈনিক
পরাজিত এক শ্রেণী,পরাজিত এক জাতি,পরাজিত এক সম্প্রদায়,
যারা এখনো বছরে পর বছর ধরে পাড়ি দিচ্ছে অন্য দেশে
কেউ কী কখনো জানতে চেয়েছে কীসের তাদের এত ভয়?
আমরা তো সব সময় সাম্যের কথা শুনি সম আধিকারের শুনি
সরকারের মুখে মিডিয়াতে টেলিভিশন রেডিও পত্রিকার পাতায় পাতায়,
কিন্তু আমাদের লাঞ্চনার কথা উপর তলার মানুষের চোখে পরে না
আমরা নিচ তলার মানুষগুলো শুধু এর ফল ভোগ করি আত্মরক্ষায়।
নির্জন বনে যেমন সিংহ মামা শাসন করে
তেমনি আমাদের শাসন করে মুখোশধারী কিছু এদেশের বৃহত্তম সম্প্রদায়,
মনে হয় এরা রাজাকারের বংশধর স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি নয়
বিচার সালিশ চলা অবস্থায় অন্যায় ভাবে হাত উঠায়।
তার কোন প্রতিবাত নেই তার কোন বিচার নেই
আমি সেই সব লাঞ্চিত সমাজের মানুষের কথা বলছি।
বটবৃক্ষ শুধু তো স্বার্থহীন ভাবে ছায়া দিয়ে যায় প্রকৃতির বুকে
কিন্তু ছায়ার নিচে যে অনিয়ম ঘটে সেটা বটবৃক্ষের অগচরেই থেকে যায়
আমি সেই বটবৃক্ষের নিচে ঘটা অনিয়মের কথা বলছি।
একদিন যে বটবৃক্ষের নিচে আমাদের পর্ব পরুষেরা স্বাধীন ভাবে বসবাস শুরু করেছিলো
সেখানে আজ অসুরের রাজ্যাংশে পরিমিত হয়েছে,
দিনেদিনে নদী ভাঙ্গনের মতো এক বাড়ি দুই বাড়ি করে কমছে আর কমছে
সমগ্র গ্রাম দাবানলের মতো পুড়েপুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
হয়তো বা একদিন আমাদের অস্তিত্ব আর টিকে থাকবে না এ স্বদেশে
হয়তো বা চিরিয়াখানাতে বাঘ সিংহ এর মতো দেখা যাবে আমাদের বংশধরদের
তখন হয়তো কারু মুখে শুনা যাবে এরা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক ছিলো
আমি সেই সব অসহায় সমাজের মানুষের কথা বলছি।
যে ব-দ্বীপের বুকে এখন আমরা বসবাস করছি
সেই ব-দ্বীপ যদি আমাদের তাদের আহার বানায়
তাহলে আমরা এখন কোথায় যাব বলতে পারেন?
গ্রাম-গঞ্জে,শহর-বন্দরে,অফিস-আদালতে সব খানেই তো তাদেরই বসবাস।
আমি সেই সব লাঞ্চিত সমাজের মানুষের কথা বলছি।
উৎসর্গ মোঃ মঞ্জুর আলম (উত্তর পাড়া)
খিহালী পশ্চিম পাড়া,আলতাফনগর,দুপচাঁচিয়া।
২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ইং
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 3টি মন্তব্য এসেছে।
১৫-০৬-২০২০ ১৪:৪৬ মিঃ
আপনে হয়তো ভালো ভাবে পড়েনি ভাইয়া,আমি শুধু মুখোশধারী কিছু মুসলমান মানুষের কথা বলেছি।যারা সব জায়গায় হিন্দুদের ভালো চোখে দেখে না।তাদের জন্যই এ উপমহাদেশে হিন্দু ৫০% থেকো ৮% হয়েছে।পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
১৫-০৬-২০২০ ১৩:৪৩ মিঃ
আমরা রাজাকারের বংশ? অথচ আমরাই তো ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রীতি বজায় রাখার জন্য বেশ লম্বা-চওড়া আইন বানিয়ে রেখেছি! আমরা কি আমাদের ধর্ম ছেড়ে দেব এখন? রাজাকারদের তো আমরা নিজেরাই ঘৃণা করি। তা বলে আমাদের আলেমরা রাজাকার হয়ে যায়না। হিন্দুরা নির্যাতিত? প্রায় প্রত্যেক সরকারী দপ্তরে হিন্দুরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চাকরী পায়। আর যদি আমরা নির্যাতন করেও থাকি, তবে সেটা আমরা করিনি; করেছে মুখোশধারী মুসলমান। সম্প্রদায় মুখোশধারী নয়, কাকা! ইসলাম কে ইসলাম দিয়ে বিবেচনা করবেন, মুসলমান দিয়ে নয়। আপনাদের মতো শুনে শুনে ধর্ম শিখিনা। আঙ্গুল তোলার আগে ভালোভাবে ভেবে দেখুন.....স্বাধীনতার গপ্প শোনায়! অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধাই ছিল মুসলমান, কাকা!

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।